বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের অধিক মানুষ মোসলমান। এদেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। এদেশে বারো আউলিয়ার শহর, বোস্তামির কুমির, আলী কদম আছে। মসজিদের শহর খোদ রাজধানী ঢাকা। প্রতি শুক্রবার সব মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতি ঈদুল ফিতরের আগে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মানুষ মরে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে ‘দেশ চলছে মদিনা সনদ অনুযায়ী’, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই ইসলামের জন্য কাজ করে’, ‘ইসলামের সেবায় বঙ্গবন্ধুই ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করেন’ (এ কারণে তার নামের পরে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যুক্ত করার দাবিও উঠছে), প্রধানমন্ত্রী আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মহানবীর (সা.) জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক আদর্শ খুঁজে নিয়েছেন। তার কাছ থেকেই গণতন্ত্র শিখেছেন।
‘দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহের নামে’ এদেশের সংবিধান শুরু করা হয়েছে। এই প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’।
এদেশে জাতীয় নির্বাচনের সময় নেতা-নেত্রীরা হজরত শাহাজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। অনেকে নির্বাচনের আগে ওমরা করে আসেন। মাথায় পট্টি পরেন। হাতে তসবিহ নেন। ধর্ম রক্ষায় জীবন বাজি রাখার অঙ্গীকার করেন। মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, ঈদগাহে মুক্তহস্তে দান করেন।
কিন্তু এহেন দেশের ধর্মমন্ত্রীর নাম জানেন না ৯৯ শতাংশ মানুষ! হারটা সম্ভবত আরো বেশি হবে। যেমন এই মুহূর্তে আমি নিজেও জানি না। গুগলে সার্চ দেওয়া ছাড়া উপায় নাই। এদেশে যখন ধর্মীয় উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, কোনো বিষয়ে ধর্মীয় বিতর্ক দেখা দেয়, ধর্মের নামে মানুষ খুন হয়, ধর্মের নামে জনগণকে প্রতারণা করা হয় তখন উপরোল্লিখিত শর্ত মতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়টি কোনো বক্তব্য বিবৃতি দেয় না।
মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানায় বরাদ্দ দিয়ে সেই টাকা ধান্দাবাজ মসজিদ-মাদরাসা-এতিমখানা কমিটির পকেট ভারি করার কাজটা কিন্তু এই মন্ত্রণালয় ভালোই পারে।
আর ওদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইসলাম প্রচারে বঙ্গবন্ধুর অবদান মার্কা ‘অভিসন্দর্ভ’ প্রকাশ করে গর্বে ফেটে পড়ে।
এই দেশের রাজনীতিতে ধর্মের এতো এতো প্রভাব কিন্তু ধর্মমন্ত্রণালয়ের এই হাল! প্রতিষ্ঠানের এই নিষ্ক্রিয়তা কিন্তু ভালো!! যে যাই বলুক- ‘এটা কিন্তু ভালোই’।

কোন মন্তব্য নেই