বায়োপিক বানাইয়া বায়োপিক স্বীকার করতে না পারা কিংবা না চাওয়াটা ভন্ডামি। আর এইটা বা ডুব নামের সিনেমাটা যে বায়োপিকই, জনতা তা জানবার পর সিনেমা হিট খাবে না। ধরে নেই যে, ডুবের প্রধান চরিত্রকে আমরা চিনি না, আভাসও পাইনা তিনি কে ছিলেন, জীবনে কি কি করছেন, বা কিভাবে উনার জীবন চলছে মৃত্যুর আগপর্যন্ত।
জাভেদ হাসানকে আমরা কেবল জানতে শুরু করি এই মুভিটা শুরু হওয়ার সাথে সাথে। তাহলে এই ডুবের কাহিনিতে ডুব দেয়া সাধারণ দর্শকের জন্য কঠিনই হবে। কাহিনির ফ্ল্যাশব্যাক, এদিকসেদিক দৌড়াদৌড়ি আর কে কি অনুভব করতেছে, কেন সমস্যা, কিসের জন্য সমস্যা এইসব বোঝা দুরুহ ব্যাপার হবে যদি প্রাক-আইডিয়া না থাকে। আপনি যদি না জানেন শাওন হুমায়ুনের মেয়ের বান্ধবী ছিলেন, গুলতেকিন আহমেদকে কিভাবে বিয়ে করছেন, কিংবা হুমায়ুন আহমেদের জীবনে কি কি ঘটছিল, তাইলে এই ডুব ছবির অর্ধেক আপনি এমনিতেই বুঝবেন না।
জাভেদ হাসানকে আমরা কেবল জানতে শুরু করি এই মুভিটা শুরু হওয়ার সাথে সাথে। তাহলে এই ডুবের কাহিনিতে ডুব দেয়া সাধারণ দর্শকের জন্য কঠিনই হবে। কাহিনির ফ্ল্যাশব্যাক, এদিকসেদিক দৌড়াদৌড়ি আর কে কি অনুভব করতেছে, কেন সমস্যা, কিসের জন্য সমস্যা এইসব বোঝা দুরুহ ব্যাপার হবে যদি প্রাক-আইডিয়া না থাকে। আপনি যদি না জানেন শাওন হুমায়ুনের মেয়ের বান্ধবী ছিলেন, গুলতেকিন আহমেদকে কিভাবে বিয়ে করছেন, কিংবা হুমায়ুন আহমেদের জীবনে কি কি ঘটছিল, তাইলে এই ডুব ছবির অর্ধেক আপনি এমনিতেই বুঝবেন না।
ফারুকি সাহেব হুমায়ুন আহমেদের জীবন নিয়েই বানাইছেন, এতে সন্দেহ নাই। কিছু কি মনে পড়তেছে আমার? হ্যা, জাভেদ সাহেবের লাশের খাটিয়া বহন করতেছে কারা যেন। সামনে মোটা ফ্রেমের চশমা পরা ওইটা কি জাভেদ সাহেবের ছেলে আহির? চশমাটা কিংবা গেটআপ হুমায়ুন আহমেদের ছেলে নুহাশের মত লাগে কেন? এইসব সামান্য ব্যাপারেও হুমায়ুনের বাইরে যাইতে পারেন নাই ফারুকী সাহেব, আর সরাসরি বলেন যে হুমায়ুন আহমেদের সাথে সম্পর্ক নাই, এইটা অনৈতিক দাবী। হুমায়ুনকে তুলে ধরেই বানাইছেন তাতে ক্ষতিও নাই, অপরাধও হবে না। কিন্তু উনি সেইটা স্বীকার করতে পারতেন। বলতে পারতেন হুমায়ুনের জীবন থেকে ফ্রেম নিছেন আর সেই ফ্রেমে দরজা জানালা নিজের ইচ্ছামত দিছেন। কিন্তু উনি সেইটা করেন নাই, সরাসরি বলছেন হুমায়ুনের সাথে ডূবের সম্পর্ক নাই।
দর্শক ঘাস খায় না বলেই আমার বিশ্বাস, গাঁজাও না। আর নীতুকে অহেতুক ভিলেন, আল্ট্রা মডার্ন বানানো চেষ্টা করা ঠিক হয়নাই। মুভি বানাইছেন বলেই একটা ভিলেন লাগবে বলেই নীতু ওরফে বাস্তবের শাওন ভিলেন? আবার দ্বিতীয় বিয়ে অপরাধও না, এইখানে মনে হইছে দ্বিতীয় বিয়ে অপরাধ এবং দ্বিতীয় বিয়ে কূটচরিত্রের কারো সাথেই হয়। সরি টু সে, একজন মানুষ কতদিন কার সাথে থাকবে সেইটা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা। ভাললাগা চলে গেলে জোর করে কারো সাথে থাকা মানুষকে আরও অসুস্থ্য করে, শান্তিতে রাখে না। হুমায়ুন সকল সামাজিক ট্যাবুকে তোয়াক্কা না করে, নিজের মত চলে যে পথ দেখাইছিলেন, সেইটার বিরুদ্ধেই এই ডুব সিনেমার অবস্থান। এই সিনেমার মূল বক্তব্য বাস্তবের মানুষগুলোর প্রকৃত অনুভূতি সম্পর্কে আপনাকে ভুল আইডিয়া দিবে।
যাইহোক, এই মুভিতে জাভেদ হাসান ওরফে ইরফান খানের অভিনয়ের তেমনকিছুই দেখা যায় নাই। বরং চোখমুখ আর হাবভাব দেখে মনে হইছে নেশাগ্রস্থ্য কেউ। ফারুকী মুভির আসল চরিত্রে আসলে নিজের স্ত্রীকে আনছেন। কিন্তু মুভিতে জাভেদের যেমন বয়স বা লুক দেখানো হইছে, তার সাথে তিশা কিংবা সাবেরি, যে জাভেদ হাসানের কন্যা, তাকে মানায় নাই। জাভেদ সাহেবের উনার স্ত্রীর সাথে কি সমস্যা ছিল, কেনই বা নীতুর প্রতি আকৃষ্ট হইলেন, এইসবের কারণ বোঝা দুস্কর লাগলো। কাহিনির আসলেই আন্তসংযোগ, সমন্বয় ছিল না পুরো মুভিতে। স্ক্রিপ্টের ব্যাপারে বলতে গেলে বলা লাগবে যে কাহিনির চিত্রনাট্য খুবই বাজে হইছে, দুর্বল। ভাবগম্ভীর করতে গিয়েই নাকি জানি না, মুভিটার গতিও বেশ স্লো। আর এসবের জন্য যারা অভিনয় করেছেন, তাদের দায় নাই। সব দায় স্ক্রিপ্টের আর যিনি ডিরেকশন দিছেন দৃশ্যায়নে।
অবশ্য এই মুভিটাকে ফারুকির অন্য সব মুভির মত দীর্ঘলেন্থের টেলিফিল্ম কিছু কম মনে হইছে, কিন্তু সেই আমেজ থেকে বের হতে পারেন নাই। ক্যামেরার কিছু কাজ, দৃশ্যায়ন ভাললাগছে, কিন্তু এইসবের জন্য যারা ডুব দেখেন নাই, তাদের ডূব দেখতে ডুব দিতে বলব না। বলব যে, যিনি সৎ সাহস নিয়ে স্বীকার করতে পারেন নাই এইটা আসলে হুমায়ুন আহমেদের জীবন থেকেই নেয়া, তার মুভি ব্যবসা সফল করে লাভ নাই। আপনাদের যদি ইরফান খানকে দেখতে ইচ্ছা করে, তাহলে টরেন্ট নামান, হিন্দি মিডিয়াম নামের হিন্দী মুভি দেখেন। আমার পার্নো মিত্রকে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ আকর্ষণীয় লাগে, কিন্তু এই মুভিতে উনিও আসলে কি অভিনয় করছেন বুঝি নাই, চান্সই দেয় নাই আসলে। ইরফান খানের উপস্থিতি ছাড়া অভিনয়ের ঝলক দেখানোর খুব একটা চান্স দেয়া হইছে বলেও মনে হয় নাই।
ডুব দেখতে দেখতে কেউ ডুবে গেলে যাইতে পারেন, মানুষ এমনিতেই হাওয়ায় ডুবে থাকে। কিন্তু এই মুভিটা নিয়ে পরিচালকের দাবী অসততার উদাহরণ। এটা না দেখে দর্শকেরা সঠিক জবাব দিলেই সেটা ভাল হবে। নট রেকমেন্ডেড...
লেখক : এলবেক তেমুদ্দিন

কোন মন্তব্য নেই