মৌলবাদীদের প্রতিহত করতেই মূলত বাংলাদেশে নাস্তিকদের উত্থান। আপাত দৃষ্টিতে এমনই মনে হয়। এখানে মৌলবাদীরা যেমন তাদের বিশ্বাস বা ধারণাকে তাদের মতোই অন্যরা (রাষ্ট্রসহ) প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নিক/প্রতিষ্ঠিত করুক এইটা চায়, ঠিক একইভাবে এদেশের নাস্তিক্যবাদীরা (পড়ুন মুক্তমনা) চায় ধর্মের উচ্ছেদ (আসলের ধার্মিকদের উচ্ছেদ)। কেউই সমাজে সহাবস্থান চায় না। তাছাড়া নাস্তিক্যবাদীদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আমজনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে বিপ্লবের দায় বলে মনে করে। এই গুণটা অবশ্য ধর্মীয় মৌলবাদীদেরও কমবেশি আছে।
মৌলবাদী আর নাস্তিক্যবাদীদের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান যেই পার্থক্যটি চোখে পড়ছে সেটি হলো- মৌলবাদীদের হাতে খুন হচ্ছে বা আক্রান্ত হচ্ছে নাস্তিক্যবাদীরা। নাস্তিক্যবাদীদের অস্ত্র কলম হলেও মৌলবাদীদের হাতে কলম নেই। তারা অবশ্য কলমে সম্ভবত বিশ্বাসও করে না। তাই হাতে তুলে নেয় চাপাতি। তারমানে নাস্তিক্যবাদীরা নিরীহ, মৌলবাদীরা সহিংস-বর্বর।
অর্থাৎ মৌলবাদীরা নিঃসন্দেহে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। আর নাস্তিক্যবাদীরা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক লিবারেল সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট।
ব্যাপারটা কি আসলেই এরকম? বিজ্ঞানভিত্তিক লিবারেল সমাজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিতর্ক বাদই দিলাম; নাস্তিক্যবাদী কলম সৈনিকরা আসলেই কি নিরীহ? ব্যাপারটা একটু অন্যভাবে দেখি-
রাষ্ট্র (স্টেট) বাই ডিফল্ট সেকুলার। অর্থাৎ রাষ্ট্রকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে একটি হেটারোজেনাস সোসাইটিতে তার ক্ষমতা চর্চা নির্বিঘ্ন করতে হলে তাকে অবশ্যই সেকুলার হতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো- এই বাধ্যতামূলক সেকুলার স্টেটের তুলনামূলক সুবিধাভোগী কে- নাস্তিক্যবাদী নাকি মৌলবাদী?
সহজ উত্তর হচ্ছে নাস্তিক্যবাদী। কারণ মৌলবাদী অলরেডি সিস্টেমের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। আর নাস্তিক্যবাদী নিজেকে সেকুলার ঘোষণা করে সেকুলার রাষ্ট্রের প্রটেকশন বেল্টের মধ্যে থেকে জনগণের সমাজ সংস্কৃতির মুণ্ডুপাত করছে। নাস্তিক্যবাদীরা রাষ্ট্রের স্বাভাবিক দ্বিচারী আচরণের কঠোর সমালোচক হলেও কখনো কখনো বিশেষ করে তাদের কাউন্টার পার্ট মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে গৃহিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নমূলক পদক্ষেপে রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্নাতীতভাবে আস্থা রাখে। এই স্ববিরোধিতা বুঝে সে সুবিধাবাদী আচরণ করে।
ক্ষমতা সুসংহত করার স্বার্থে রাষ্ট্র মৌলবাদীদের যেমন প্রশ্রয় দেয় আবার তাদের উপর স্টিমরোলার চালাতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে নাস্তিক্যবাদী সব সময়ই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। রাষ্ট্র তাদের পছন্দ না করলেও তাদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। তারা অবশ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে সবসময়ই নিরাপত্তা চায়ও। এখানে বিপ্লব, মানবিকতা, উদারনৈতিকতার নিকুচি করে তারা। ফলে রাষ্ট্র যখন তার প্রয়োজনে ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনের নামে সাধারণ জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালায় তখন তারা এর প্রতিবাদ তো করেই না বরং প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়। শুধু তাই নয়, এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে কখনো কখনো তারা রাষ্ট্রকে উসকানিও দেয়।
তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? কে বেশি বিপজ্জনক?
আরেকটু খোলাসা করা যাক, নাস্তিক্যবাদী ও মৌলবাদী- বোথ আর মার্জিনালাইজক গ্রুপ। তারা খুবই ছোট একটা গোষ্ঠী। ফলে রাষ্ট্র সচেতন ও সদিচ্ছা থাকলে মৌলবাদী গোষ্ঠীকে খুব সহজেই দমন করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কোলেই আরামে নিদ্রা যাওয়া নাস্তিক্যবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মৌলবাদীরা কখনোই রাষ্ট্রকে তাদের পাশে পায় না কারণ, রাষ্ট্র বাই ডিফল্ট সেকুলার। সে এইটা করতে পারে না। তার মানে মৌলবাদ ঠেকাতে রাষ্ট্র একাই যথেষ্ট, কিন্তু জনগনের সমাজ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসে ক্রমাগত আঘাত করে উত্তেজিত করার বাতিকগ্রস্ত, উগ্র নাস্তিক্যবাদীদের ঠেকাবে কে?
মৌলবাদী আর নাস্তিক্যবাদীদের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান যেই পার্থক্যটি চোখে পড়ছে সেটি হলো- মৌলবাদীদের হাতে খুন হচ্ছে বা আক্রান্ত হচ্ছে নাস্তিক্যবাদীরা। নাস্তিক্যবাদীদের অস্ত্র কলম হলেও মৌলবাদীদের হাতে কলম নেই। তারা অবশ্য কলমে সম্ভবত বিশ্বাসও করে না। তাই হাতে তুলে নেয় চাপাতি। তারমানে নাস্তিক্যবাদীরা নিরীহ, মৌলবাদীরা সহিংস-বর্বর।
অর্থাৎ মৌলবাদীরা নিঃসন্দেহে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। আর নাস্তিক্যবাদীরা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক লিবারেল সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট।
ব্যাপারটা কি আসলেই এরকম? বিজ্ঞানভিত্তিক লিবারেল সমাজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিতর্ক বাদই দিলাম; নাস্তিক্যবাদী কলম সৈনিকরা আসলেই কি নিরীহ? ব্যাপারটা একটু অন্যভাবে দেখি-
রাষ্ট্র (স্টেট) বাই ডিফল্ট সেকুলার। অর্থাৎ রাষ্ট্রকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে একটি হেটারোজেনাস সোসাইটিতে তার ক্ষমতা চর্চা নির্বিঘ্ন করতে হলে তাকে অবশ্যই সেকুলার হতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো- এই বাধ্যতামূলক সেকুলার স্টেটের তুলনামূলক সুবিধাভোগী কে- নাস্তিক্যবাদী নাকি মৌলবাদী?
সহজ উত্তর হচ্ছে নাস্তিক্যবাদী। কারণ মৌলবাদী অলরেডি সিস্টেমের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। আর নাস্তিক্যবাদী নিজেকে সেকুলার ঘোষণা করে সেকুলার রাষ্ট্রের প্রটেকশন বেল্টের মধ্যে থেকে জনগণের সমাজ সংস্কৃতির মুণ্ডুপাত করছে। নাস্তিক্যবাদীরা রাষ্ট্রের স্বাভাবিক দ্বিচারী আচরণের কঠোর সমালোচক হলেও কখনো কখনো বিশেষ করে তাদের কাউন্টার পার্ট মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে গৃহিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নমূলক পদক্ষেপে রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্নাতীতভাবে আস্থা রাখে। এই স্ববিরোধিতা বুঝে সে সুবিধাবাদী আচরণ করে।
ক্ষমতা সুসংহত করার স্বার্থে রাষ্ট্র মৌলবাদীদের যেমন প্রশ্রয় দেয় আবার তাদের উপর স্টিমরোলার চালাতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে নাস্তিক্যবাদী সব সময়ই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। রাষ্ট্র তাদের পছন্দ না করলেও তাদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। তারা অবশ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে সবসময়ই নিরাপত্তা চায়ও। এখানে বিপ্লব, মানবিকতা, উদারনৈতিকতার নিকুচি করে তারা। ফলে রাষ্ট্র যখন তার প্রয়োজনে ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনের নামে সাধারণ জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালায় তখন তারা এর প্রতিবাদ তো করেই না বরং প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়। শুধু তাই নয়, এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে কখনো কখনো তারা রাষ্ট্রকে উসকানিও দেয়।
তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? কে বেশি বিপজ্জনক?
আরেকটু খোলাসা করা যাক, নাস্তিক্যবাদী ও মৌলবাদী- বোথ আর মার্জিনালাইজক গ্রুপ। তারা খুবই ছোট একটা গোষ্ঠী। ফলে রাষ্ট্র সচেতন ও সদিচ্ছা থাকলে মৌলবাদী গোষ্ঠীকে খুব সহজেই দমন করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের কোলেই আরামে নিদ্রা যাওয়া নাস্তিক্যবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মৌলবাদীরা কখনোই রাষ্ট্রকে তাদের পাশে পায় না কারণ, রাষ্ট্র বাই ডিফল্ট সেকুলার। সে এইটা করতে পারে না। তার মানে মৌলবাদ ঠেকাতে রাষ্ট্র একাই যথেষ্ট, কিন্তু জনগনের সমাজ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসে ক্রমাগত আঘাত করে উত্তেজিত করার বাতিকগ্রস্ত, উগ্র নাস্তিক্যবাদীদের ঠেকাবে কে?

কোন মন্তব্য নেই