নিউ মিডিয়া কী

Share:

নিউ মিডিয়া বলতে এমন যোগাযোগ মাধ্যমকে বলা হচ্ছে যার উৎপত্তি, প্রক্রিয়াকরণ, ধরন, প্রকরণ সবকিছুই কম্পিউটার নির্ভর। এমনকি এসব মাধ্যমের কনটেন্টের বিতরণ ব্যবস্থাও কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল। নিউ মিডিয়ার কিছু নমুনা হতে পারে: টেলিফোন/সেলফোন, কম্পিউটার, ভার্চুয়াল দুনিয়া, সিঙ্গল মিডিয়া (যেমন: ব্লগ), ওয়েবসাইট গেমস, মানুষ-কম্পিউটার আন্তঃযোগাযোগের ইন্টারফেস, কম্পিউটার অ্যানিমেশন এবং কম্পিউটার, মানুষ ও অন্যান্য ডিভাইসের মিথষ্ক্রিয়ায় গঠিত ব্যবস্থা (সিস্টেম)।

টেলিভিশন, রেডিও এবং মুদ্রণ মাধ্যমকে প্রায়ই পুরাতন মাধ্যম বা ওল্ড মিডিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নিউ মিডিয়ার ধারণা আসার পর থেকেই এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে এবং এ ধারণা সাধারণের মধ্যে প্রবল। কিন্তু যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের বিশেষজ্ঞরা এভাবে নতুন-পুরাতনে পার্থক্য করার পক্ষপাতি নন।   টেলিভিশন প্রোগ্রাম (কেবল এনালগ সম্প্রচার), ফিচার ফিল্ম, ম্যাগাজিন, বই- এসবকে ডিজিটাল অথবা আন্তঃযোগাযোগে সক্ষম করে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি জুড়ে দিতে পারলেই নিউ মিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে।

নিউ মিডিয়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে উইকিপিডিয়া। এটি এমন একটি অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া যেখানে , ইন্টারনেটে ডিজিটাল কনটেন্ট পড়া যায়, টেক্সট কনটেন্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়েব লিঙ্ক, ছবি এবং ভিডিও যুক্ত করা যায়, কন্ট্রিবিউটরদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ, ব্যবহারকারীর সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা ও ফিডব্যাকের সুবিধা এবং সম্পাদনাকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠা, পাশাপাশি ডিজিটাল পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম।

ফেসবুক আরেকটি নিউ মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগ  যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি মডেল বলা চলে। এই মিডিয়ার বেশিরভাগ ব্যবহারকারী মূলত সরাসরি অংশগ্রহণকারীও। নিউ মিডিয়ার আরেকটি উদাহরণ টুইটার। সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং সাধারণের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেসবুক এবং টুইটার উভয়েরই ব্যবহারই ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে তথ্যপ্রবাহে অনলাইন এখন বড় উৎস ও মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

তবে নিউ মিডিয়া আর সাইবার কালচারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  সাইবার কালচার হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক ঘটনা যা ইন্টারনেট এবং নেটওয়ার্ক যোগাযোগের সাথে যুক্ত (ব্লগ, অনলাইন মাল্টি-প্লেয়ার গেমিং)। এটাকে কোনোভাবেই গণযোগাযোগের মাধ্যম বলা যাবে না। এর বিপরীতে নিউ মিডিয়া সাংস্কৃতিক এবং প্যারাডাইমের (ডিজিটাল অথবা এনালগ টেলিভিশন, আইফোন) বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দেয়।

নিউ মিডিয়া স্টাডিজ
New media studies হলো কম্পিউটিং, বিজ্ঞান, হিউম্যানিটিজ, ভিজুয়াল এবং পারফর্মিং আর্টসের নানা বিষয় নিয়ে গঠিত একটি মোটামুটি সাম্প্রতিক একাডেমিক শৃঙ্খলা। জ্যানেট মারে, এই শাখার এক বিশিষ্ট গবেষক। তার মতে, বিশ শতকের শেষে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির পারস্পরিক ক্রিয়ায় (মিথষ্ক্রিয়া) উপস্থাপনার একটি একক নতুন মাধ্যম। ডিজিটাল মাধ্যম, এই শাখার যোগসূত্র।

নিউ মিডিয়া স্টাডিজ এর একটি কোর্সে, ছাত্রছাত্রীরা যোগাযোগ তাত্ত্বিক, প্রোগ্রামার, শিক্ষাবিদ, এবং প্রযুক্তিবিদদের থেকে মিডিয়া নিয়ে নানাবিধ ধ্যানধারণা এবং অর্ন্তদৃষ্টি পায়। বিশেষত মার্শাল ম্যাকলুহান এর কাজ মিডিয়া তত্ত্ব গবেষণায় অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। ম্যাকলুহান এর স্লোগান, "the medium is the message"। তার Understanding Media: The Extensions of Man বইটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশ হয়। এই বইয়েই তিনি যোগাযোগ মাধ্যমে নিউ মিডিয়ার স্বকীয়তার বিষয়টি ই আলোচনা করেছেন।

নিউ মিডিয়া স্টাডিজ যোগাযোগ, সাংবাদিকতা, কম্পিউটার সায়েন্স, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, মানুষ-কম্পিউটার মিথস্ক্রিয়া, গণমাধ্যম তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, তথ্যবিজ্ঞান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে। 

কোন মন্তব্য নেই