একটি দুর্দান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার ১০টি কৌশল

Share:


সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়ার সময় এবং পেশাগত জীবনের প্রবেশের পর বিশেষ করে শুরুর দিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়াটা ক্যারিয়ারের জন্য খুবই উপকারী। বেশি সাক্ষাৎকার নিলে যেমন পরিচিতি এবং সোর্স বাড়ে তেমনি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কথা বলার কারণে সহজে ঋদ্ধ হওয়া যায়।

সাক্ষাৎকার মানে কিন্তু পত্রিকায় বা ব্রডকাস্ট মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার হিসেবে প্রকাশ বা প্রচারের বিষয় নয়। সাক্ষাৎকার থেকে চমৎকার একাধিক প্রতিবেদন, নিবন্ধ বা প্রবন্ধ লেখার এটি রসদ জোগার হয়ে যেতে পারে। 

এর জন্য বিখ্যাত কোনো রেডিও, টেলিভিশন উপস্থাপক থেকে শুরু করে ক্রীড়াবিদ বা রাস্তায় দৈবচয়নে নেওয়া অপরিচিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া যেতে পারে। শুরুর দিকে কোনো বাছবিচার না করাই ভালো। এরপর ধীরে ধীরে ব্যক্তির পরিচয়, অতীত ঘেঁটে বেছে সাক্ষাৎকার নেওয়া ভালো। এতে করে আপনি নতুন নতুন ও চমকপ্রদ ব্যাকগ্রাউন্ড আবিষ্কার করতে পারবেন, যেগুলোর ভিত্তিতে তৈরি হতে পারে সাড়া জাগানো কোনো প্রতিবেদন।

সাক্ষাৎকার মানে কিন্তু একের পর এক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা বা এক বসাতেই কোনো ব্যক্তির জীবনের সব খবর জানতে চাওয়া নয় এবং সাক্ষাৎকার দাতার জবাবগুলো নোটে টুকে নেওয়াই শেষ কথা নয়। আপনি যখন একটি দুর্দান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ আয়োজনের মাঝখানে থাকেন, তখন নিজে থেকে আক্ষরিক অর্থেই উত্তেজনার বিস্ফোরণ অনুভব করবেন। আনন্দে মন নেচে উঠবে। আপনার খালি মনে হবে, এইতো আমি কাঙ্ক্ষিত জায়গায় এসে পৌঁছে গেছি। এই উত্তরটাই তো চাইছিলাম।

মনে রাখতে হবে, সাক্ষাৎকারে এক ধরনের জাদুকরী ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপার আছে। আপনার থাকতে হবে টনটনে কাণ্ডজ্ঞান আর পরিমিতি বোধ। 

সাক্ষাৎকার মূলত প্রশ্ন এবং উত্তরের বিষয়। কিন্তু এছাড়াও এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর রাখতে হয়। একটি চমৎকার সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য এখানে ১০টি টিপস দেওয়া হলো: 

১.  বিষয় সম্পর্কে জানুন

আপনাকে সাক্ষাৎকার দাতা ব্যক্তি এবং সাক্ষাৎকারের বিষয় উভয় সম্পর্কে যতটা সম্ভব আগে থেকেই জানতে হবে। এর জন্য আপনি হাতের কাছে আধুনিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করুন: ইন্টারনেটেই অনেক তথ্য খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ওই ব্যক্তির আগের সাক্ষাৎকারগুলো (যদি থেকে থাকে) পড়ুন। এতে আপনি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পেতে পারেন। সাক্ষাৎকার দাতার কাজ, আগ্রহের বিষয় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি যে বিষয়গুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছেন সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন।

সুতরাং, প্রথমত বিষয়ের গভীরে গিয়ে ব্যক্তি কী বলেন সেটি আপনার বুঝতে পারার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে। তাছাড়া সাক্ষাৎকার দাতাই আপনাকে পরীক্ষা করতে শুরু করলে কিন্তু ফাঁদে পড়বেন। তখন আপনি যথেষ্ট গবেষণা করেননি এটা স্বীকার করার চেয়ে বিব্রতকর আর কিছু হবে না।

যাইহোক, এর মানে এই নয় যে আপনাকে সবকিছু জানতে হবে, বুঝতে হবে। কথোপকথন চলতে থাকলে আপনি অবশ্যই আরও ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তবে মৌলিক বিষয়গুলোতে আটকে যাওয়া যাবে না।

২. আগে থেকে প্রশ্ন পাঠাবেন না

আগে প্রশ্ন পাঠানো মানে হলো, মোমবাতি জ্বালানোর আগেই ফুঁ দেওয়ার মতো ব্যাপার। এমনকি যদি চাওয়াও হয়, যেকোনোভাবে প্রশ্নগুলো আগে থেকে পাঠানোর আবদার এড়িয়ে যেতে হবে। বরং আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন সেগুলো সম্পর্কে তাকে বা তাদের জানতে দিন, যাতে তিনি/তারা জানেন আপনি আসলে কোন ধরনের বিষয়ে কথা বলতে চান। এর বেশি কখনোই এগোবেন না।

এর দুটি কারণ আছে। প্রথমত, সাক্ষাৎকার দাতা আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে থাকবে। আর উত্তরগুলো হবে একটি রেডিমেড বক্তৃতা আবৃত্তি করার মতো। মানে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

আপনার উদ্দেশ্য থাকবে, সাক্ষাৎকার দাতাকে সারপ্রাইজ দেবেন, তাকে অবাক করবেন, তার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে, তিনি আসলে কে, তার ভেতরের মানুষটাকে বের করতে চাইবেন।

দ্বিতীয়ত, সাক্ষাৎকারকে শুধু প্রশ্ন/উত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা যাবে না। এটি এমন একটি আলোচনা হবে যেখানে একজন ব্যক্তি অপরজনের ওপর কথার খবরদাবির করবে। আপনি যদি প্রশ্নগুলো আগেই পাঠান, তাহলে আপনি আপনার কাজ এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রশ্ন/উত্তরের মধ্যে সীমিত করে ফেলবেন।

৩. কথপোকথনটাকে মানবিক করুন

সরাসরি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মধ্যে ডুব দেবেন না। কথপোকথনকে মানবিক করুন। আপনি যার সাথে কথা বলছেন তাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন। তার কাজ নয়, তার ক্যারিয়ার সম্পর্কিত নয়, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে তার ভূমিকা নয়, বা অন্য নানা বিষয়ে হালকা আলাপ করতে পারেন। এতে করে তাকে জেনে নেওয়ার সুযোগ হয়।

আরও ব্যক্তিগত মত বিনিময় এবং একটি আত্মবিশ্বাস-ভিত্তিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরিতে তার প্রতি আপনার আগ্রহ প্রকাশটা জরুরি। সেটি এসব প্রসঙ্গের বাইরের প্রশ্ন বা কথপোকথনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়।  একটি কাজ বা চাকরি, কর্মস্থলে বা ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বা পদ-পদবির মধ্যে আলোচনা সীমিত করে ফেলাটা সাক্ষাৎকারের জন্য সুখকর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে না। সর্বপ্রথম এবং সর্বাগ্রে আমরা মানুষ- এটি মাথায় রাখতে হবে।

৪. আগেই প্রশ্ন প্রস্তুত করুন

সবসময় আগে থেকে প্রশ্নের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এটি একটি দুই ধাপের প্রক্রিয়া। প্রথমত, গবেষণা করার সময়, কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে। এসব লিখে, এবং যখন আপনি গবেষণা শেষ করবেন, তখন ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, আপনি আসলে এই সাক্ষাৎকারে কী খুঁজে পেতে চান, সাক্ষাৎকার থেকে কী পেতে চান, কোন বিষয় খোলাসা করতে চান। এসব সম্পর্কে যত বেশি চিন্তা করবেন, তত বেশি প্রশ্ন আপনার মনে আসবে এবং সেগুলো দেখবেন আরও আকর্ষণীয় হবে।

যাইহোক, সাক্ষাৎকারের সময় আপনার বিষয়ের প্রশ্নের আশেপাশে খুব বেশি আটকে থাকা যাবে না।  এগুলো এক ধরনের সুরক্ষা জাল, কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা আবশ্যিক, অর্থাৎ সাক্ষাৎকারে কোন প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করা ভুলে গেলে চলবে না, সেটি ভুলে গেলে মনে করার একটি চমৎকার উপায় হলো প্রসঙ্গের বাইরে টুকটাক আলাপ জুড়ে দেওয়া। আপনি চাইলে কয়েকটি প্রশ্ন হাইলাইট করতে পারেন যাতে আপনি ভুলে না যান যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনটি এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে। কথোপকথনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করুন। আপনার যদি মনে হয়, সাক্ষাৎকার দাতা জ্বলের ওঠার উপক্রম হচ্ছেন, তখন প্রশ্নগুলো বাদ দিন এবং সামনে এগোতে থাকেন। মজার ব্যাপার হলো, এই সময়টাতেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসগুলো ঘটে।

৫. ভয়েস রেকর্ডার ব্যবহার করুন

ভয়েস রেকর্ডার যে সব সময় কাজে দেয় এমন না।  তবে করাই ভালো। এই ডিভাইসটির সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। সুবিধাগুলো হলো: আপনাকে নোট নিতে হবে না, তাই আপনি আপনার সমস্ত মনোযোগ কথপোকথনে নিবদ্ধ করতে পারেন এবং চোখের যোগাযোগ রাখতে পারেন; আপনি নিশ্চিত যে কোনো তথ্য মিস করবেন না বা ভুলে যাবেন না; আপনি আপনার নিবন্ধের নিকটতম শব্দের সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি লিখতে সক্ষম হবেন; আপনি নিজেকে অভিযোগ (বক্তব্য অস্বীকার করা ইত্যাদি) থেকে রক্ষা করতে পারবেন — যদি আপনি ভয়েস রেকর্ড করে থাকেন তবে আপনি কী লিখেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

যাইহোক, সব কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড করা সম্ভব হয় না।  আপনাকে সর্বদা সাক্ষাৎকার দাতার কাছ থেকে রেকর্ডের ব্যাপারে অনুমতি নিতে হবে। ভয়েস রেকর্ডের সাথে আপনার উদ্দেশ্য কী তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।

ভয়েস রেকর্ডের আরেকটি অসুবিধা হলো, যখন লিখতে বসবেন তখন আপনাকে পুরো বিষয়টি আবার শুনতে হবে, এটি কিন্তু শুধু নোট নেওয়ার চেয়ে একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

৬. ওপেন-এন্ডেড প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন এবং মূল প্রশ্ন থেকে বিচ্যুত হতে দিন

আপনাকে মাঝে মাঝে ক্লোজ-এন্ডেড (বদ্ধ) প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে। যেমন, ‘আপনি কতদিন ধরে আছেন…?’।

অর্থাৎ এমন প্রশ্ন করতে হবে যেগুলোর উত্তর শুধু নির্দিষ্ট বিকল্পগুলি থেকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। এগুলি একাধিক-পছন্দের বিন্যাসে, হ্যাঁ বা না, সত্য বা মিথ্যা বা এমনকি একটি স্কেলে রেটিংয়ের সিরিজ হিসেবেও হতে পারে। অর্থাৎ এক কথায় এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় বা বিদ্যমান অনেকগুলো বিকল্প থেকে একটি বেছে নিতে হয়।

কিন্তু একটি দুর্দান্ত সাক্ষাৎকারে ৮০%-এরও বেশি প্রশ্ন হওয়া উচিত উন্মুক্ত (ওপেন-এন্ডেড)। আপনার সামনে থাকা ব্যক্তিটির আসল প্রকৃতিকে কার্যকরভাবে প্রকাশ করার জন্য এটি একটি মৌলিক শর্ত।

অর্থাৎ হ্যাঁ/না দিয়ে বা প্রদত্ত বিকল্পগুলো থেকে বেছে নিয়ে উত্তর দেওয়া যাবে না। যার অর্থ হলো উত্তরদাতাকে কোনো প্রম্পট ছাড়াই উত্তরগুলো নিজেরাই ভাবতে হবে৷

উত্তরদাতাকে প্রসঙ্গ থেকে সামান্য দূরে সরে যেতে দিন। তবে খুব বেশি নয়, কারণ আপনি কখনোই চাইবেন না আসল প্রসঙ্গ ছেড়ে একটা ‘কর্পোরেট বক্তৃতা’ শুরু করে তিন। তবে তাকে কথা বলতে দিন এবং কথোপকথনটি অন্য দিকে নিয়ে যান। এরপর একটা সহজ ও বহুল প্রচলিত কৌশলে আবার প্রসঙ্গে ফিরিয়ে আনতে পারেন। যেমন: ‘আমি কি যে প্রসঙ্গে কথা বলছিলাম আবার সেখানে ফিরে যেতে পারি…’ এই সূত্রটি মোক্ষম।

৭. আপনার সুবিধার জন্য নীরবতাকে ব্যবহার করুন

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নীরবতা একটি খুব শক্তিশালী হাতিয়ার। এটা আলোচনার মাঝখানে আপনার সুবিধার জন্যই ব্যবহার করতে হবে। যখন আপনার মনে হবে যে উত্তরদাতার যা কিছু বলার কথা ছিল তার সবকিছু বলছেন না, বা তিনি হয়তো আপনার সাথে মিথ্যা বলছেন, ওই সময় তিনি কথা বলা বন্ধ করার পর আপনি একটু চুপ করে থাকুন। খুব বেশি সময় নয় অবশ্য, কারণ আলোচনার মাঝখানে দীর্ঘ নীরবতা খুব বিশ্রী ব্যাপার হবে। এটা হতে পারে কয়েক সেকেন্ড। এতে উত্তরদাতা হঠাৎ বিস্মিত বা কিছু হতচকিয়ে যেতে  পারেন, এবং হঠাৎ নীরবতায় কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। এই শূন্যস্থানের অস্বস্তি দূর করতে তিনি নিজেই হয়তো বাড়তি কিছু তথ্য যোগ করবেন বা আপনাকে জানাবেন- এই সম্ভাবনা কিন্তু প্রবল।

৮. উত্তর রিফরমুলেট বা সংস্কার করুন

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি তথ্য পাওয়ার আরেকটি দুর্দান্ত কৌশল এটি। যখন আপনার কথোপকথনের মাঝখানে সামান্য সময় নীরবতা থাকে এবং আপনার মনে হয় যে এ বিষয়ে আরও গভীরে যাওয়া উচিৎ, তখন শুধু সাক্ষাৎকার দাতার আগ মুহূর্তের বা আগের কোনো উত্তরটি সংস্কার করুন। যেমন: ‘যদি আমি আপনার কথা সঠিকভাবে বুঝে থাকি...’, এবং আপনার বাক্যের শেষে একটি জিজ্ঞাসাবাদমূলক স্বর রাখুন। দেখবেন উত্তরদাতা আরো বিস্তারিত বলছেন। ফলে নতুন তথ্য পেয়ে যাবেন।

৯. প্রাপ্ত উত্তরগুলোর দিকে দ্বিতীয়বার মনোযোগ দিন

মানুষের যোগাযোগ মূলে হলো ‘শব্দ'। কিন্তু একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে বুঝতে তাঁর গলার স্বর এবং মুখের অভিব্যক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিকেও মনোযোগ দিন। লোকটি কি কিছু বলতে চাচ্ছে? তার মধ্যে দ্বিধা? তাকে কি রাগান্বিত মনে হচ্ছে? লাজুক? কথা বলার সময় চোখে চোখ রাখছেন কি? এসব বিষয় আপনার বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে কাজ করবে।

আপনাকে ওই ব্যক্তি যা বলছেন, আপনি যে তার ভুল ব্যাখ্যা করছেন না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত কৌশল। সাক্ষাৎকারের জন্য ভয়েস রেকর্ড ব্যবহার করার এটি একটি বড় সুবিধা বলা যায়। কারণ তখন আপনি নিশ্চিন্তে ব্যক্তির কণ্ঠস্বর, মুখ ও অঙ্গভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখতে পারেন।

১০. নিজের ভেতরে বিস্ফোরণের ধাক্কা অনুভব করুন

আলাপের একটা পর্যায়ে গিয়ে আপনি নিজের ভেতর যখন সামান্য বিস্ফোরণ, সামান্য উত্তেজনা, 'এটার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম’, ‘আসল জায়গায় এসে পড়েছি’ এই অনুভূতি যখন স্পষ্ট বুঝতে পারবেন তখনই ধরে নেবেন আপনি সাক্ষাৎকারের মূলের কাছাকাছি চলে যাচ্ছেন। এবার আর দেরি না করে বিষয়ের আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করুন, আরও আরও প্রশ্ন করুন, এই মুহূর্তের ওপর আপনার সমস্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন।

প্রতিটি সফল সাক্ষাৎকারের এই 'টার্নিং পয়েন্ট' থাকে। আপনারই বোধ হবে যে, এটিই সেই সঠিক মুহূর্ত যা আপনি খুঁজছেন। আপনি এই সাক্ষাৎকার কেন নিতে এসেছেন- সেটির জবাব এটিই। এই জবাবটা আপনার কাছে স্পষ্ট হলে ওই মুহূর্তটিকে কখনো ফসকে যেতে দেবেন না। পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে আরও গভীরে যেতে থাকুন।

ওপরের আলোচনাগুলোতে যেসব কৌশলের কথা বলা হয়েছে সেগুলোকে সাক্ষাৎকার দাতার কাছ থেকে তথ্য ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো অস্ত্র বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। আপনি বরং একটি দুর্দান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার টুল হিসেবে এগুলোকে দেখুন। আপনার সাক্ষাৎকার দাতার প্রতি সর্বদা সম্মান দেখান। যদি তিনি কোনো বিষয়ে আর এগোতে না চান, তাহলে আপনাকে তার পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান করতে হবে। এটা আত্মবিশ্বাসের বিষয়। যে কোনো উপায়ে তথ্য বের করে আনার মতো কাণ্ডজ্ঞানহীন সাংবাদিক নিশ্চয় আপনি হতে চান না।

কোন মন্তব্য নেই